অভ্যন্তরীণ নদীপথে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) সিরিয়ালে জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত ভাড়াও কিছুটা কমানো হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে বিডব্লিউটিসিসির কার্যালয়ে গতকাল বার্থিং সভায় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা নদীপথে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সিরিয়াল পদ্ধতিতে লাইটারেজ চলাচলের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। অন্যান্য পরিবহন খাতের মতো নৌ-পরিবহন খাতও নিরাপদ, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল থাকা জরুরি। কারণ আমদানি-রফতানি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক ও নিরাপদ থাকলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও গতি পাবে।’
বিডব্লিউটিসিসির আহ্বায়ক সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সুপারভাইজার মোহাম্মদ মনজুরুল কবির, সেল কর্মকর্তা হাজী সফিক আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবির।
সভায় বক্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বছরে প্রায় ১০ কোটি টন পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়। আমদানীকৃত ভোগ্যপণ্য, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালসহ নানা শিল্পপণ্য মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজের (ছোট জাহাজ) মাধ্যমে পরিবহন করায় অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটে শৃঙ্খলা বজায় রাখাটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন সিরিয়াল পদ্ধতির কার্যক্রমে এরই মধ্যে ২৮০টি জাহাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্রমান্বয়ে এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলেও জানান বক্তারা।
নতুন নীতিমালা অনুসারে, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের সুপারভাইজরি কমিটি এ সেলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী, বিডব্লিউটিসিসির বরাদ্দ ছাড়া কোনো লাইটার জাহাজ দেশের যেকোনো সমুদ্রবন্দরে আসা মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত থাকতে পারবে না। তবে যেসব কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব লাইটার জাহাজ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের অব্যাহতিপত্র পাওয়া সাপেক্ষে নিজস্ব জাহাজে পণ্য পরিবহন করতে পারবে।
আইভোয়াকের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আপাতত আমাদের তিন সংগঠনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আশা করি সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে এ প্লাটফর্ম পরিচালিত হবে।’
আগের মতো অভ্যন্তরীণ নদীপথে পণ্য পরিবহনে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতি থাকবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।